---Advertisement---

ভারতকে ‘নরকের কুঠুরি’ কটাক্ষ ট্রাম্পের, দিল্লির কড়া প্রতিবাদ

April 25, 2026 8:48 AM
ভারত যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা: ট্রাম্পের 'নরকের কুঠুরি' কটাক্ষে দিল্লির প্রতিবাদ
---Advertisement---

জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিকত্ব নিয়ে চলমান বিতর্কের মাঝে ভারত যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে নতুন করে ঝড় উঠেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার নিজস্ব প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে একটি পডকাস্টের লিখিত অংশ শেয়ার করেন, যেখানে ভারতকে ‘নরকের কুঠুরি’ (hellhole) বলে অভিহিত করা হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটেছে এপ্রিল ২০২৬-এর শেষ সপ্তাহে, যা দুই দেশের কূটনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।

মন্তব্যটি মূলত রক্ষণশীল রেডিও উপস্থাপক মাইকেল স্যাভেজের ‘স্যাভেজ নেশন’ অনুষ্ঠান থেকে নেওয়া। ট্রাম্প নিজে কোনো মন্তব্য না করলেও ওই পডকাস্টের পুরো ভিডিও ও ট্রান্সক্রিপ্ট শেয়ার করায় বিষয়টি আন্তর্জাতিক বিতর্কে রূপ নিয়েছে।

ভারত সরকার দ্রুত এই মন্তব্যের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে এবং একে ‘অজ্ঞতাপ্রসূত ও কুরুচিপূর্ণ’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। 🌏

কী বলেছিলেন স্যাভেজ, কেন শেয়ার করলেন ট্রাম্প?

মাইকেল স্যাভেজ তার রেডিও শোতে আমেরিকার ‘বার্থরাইট সিটিজেনশিপ’ বা জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব নীতির কড়া সমালোচনা করছিলেন। তিনি দাবি করেন, এই সুবিধা ব্যবহার করে বিদেশিরা গর্ভাবস্থার শেষ পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্রে এসে সন্তান জন্ম দেন, যাতে সেই শিশু স্বয়ংক্রিয়ভাবে মার্কিন নাগরিক হয়ে যায়। সেই প্রসঙ্গেই তিনি ভারত, চীনসহ অন্যান্য দেশকে ‘পৃথিবীর অন্য কোনো নরকের কুঠুরি’ বলে উল্লেখ করেন।

স্যাভেজ আরও অভিযোগ করেন, ভারতীয় ও চীনা প্রযুক্তি অভিবাসীরা মার্কিন চাকরির বাজারে আধিপত্য বিস্তার করছেন এবং তাদের ‘ল্যাপটপ হাতে গুন্ডা’ (gangsters with laptops) বলেও কটাক্ষ করা হয় ওই পর্বে।

বর্তমান অভিবাসীদের মধ্যে আমেরিকার প্রতি আনুগত্য নেই বলেও তিনি মন্তব্য করেন। ট্রাম্প নিজের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য না যোগ করেই পুরো বিষয়টি পুনরায় পোস্ট করেন — এবং এতেই বিতর্কের ঝড় শুরু হয়।

আরো পড়ুন: এবার নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে শারী-রিক সম্পর্কের বিনিময়ে নারী এমপিদের মন্ত্রিত্ব দেওয়ার অভিযোগ

জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব: বিতর্কের মূল প্রেক্ষাপট

ট্রাম্প প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ১৪তম সংশোধনীর অধীনে প্রদত্ত জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সুবিধা সীমিত করার চেষ্টা করছে। ট্রাম্প তার দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এসে এ বিষয়ে একটি নির্বাহী আদেশ জারি করেন, যা বর্তমানে মার্কিন সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

ট্রাম্প এক সাক্ষাৎকারে ভুলভাবে দাবি করেছিলেন, পৃথিবীতে কেবল যুক্তরাষ্ট্রেই এই সুবিধা দেওয়া হয়। বাস্তবতা হলো, কানাডা, মেক্সিকোসহ বিশ্বের প্রায় ৩০টিরও বেশি দেশে জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের আইন চালু রয়েছে। এই প্রসঙ্গেই স্যাভেজের পডকাস্ট শেয়ার করে ট্রাম্প মূলত অভিবাসন বিরোধী অবস্থানকে আরও জোরদার করতে চেয়েছেন বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

ভারতের তীব্র প্রতিবাদ: নয়াদিল্লির অবস্থান কী?

মন্তব্যটি প্রকাশ পাওয়ার পরপরই ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সরব হয়। মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বৃহস্পতিবার রাতে এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই মন্তব্যকে ‘স্পষ্টতই অজ্ঞতাপ্রসূত, অপ্রাসঙ্গিক এবং কুরুচিপূর্ণ’ বলে আখ্যা দেন।

তিনি বলেন, এই মন্তব্য ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের বাস্তব প্রতিফলন নয়, যা দীর্ঘদিন ধরে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও অভিন্ন স্বার্থের ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে।

নয়াদিল্লিতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসও দ্রুত বিবৃতি দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেছে। দূতাবাসের বিবৃতিতে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ভারতের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করেন এবং ভারতকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বন্ধু হিসেবে দেখেন।

একই সঙ্গে, পরের দিন ট্রাম্প নিজেও ভোলবদল করে ভারতের প্রশংসা করেন এবং মোদীকে তাঁর ‘খুব ভালো বন্ধু’ বলে উল্লেখ করেন — যা ‘ড্যামেজ কন্ট্রোল’ হিসেবেই বিশ্লেষকরা দেখছেন।

বিভিন্ন পক্ষের প্রতিক্রিয়া 🗣️

এই ঘটনায় একাধিক পক্ষ থেকে সরব প্রতিক্রিয়া এসেছে। নিচে মূল প্রতিক্রিয়াগুলো তুলে ধরা হলো:

পক্ষপ্রতিক্রিয়া
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়‘অজ্ঞতাপ্রসূত, অপ্রাসঙ্গিক ও কুরুচিপূর্ণ’
ভারতের প্রধান বিরোধীদল কংগ্রেস‘চরম অপমানজনক ও ভারতবিরোধী’; মোদীকে ট্রাম্পের কাছে জোরালো আপত্তি জানাতে বলেছে
মার্কিন দূতাবাস, নয়াদিল্লিট্রাম্প ভারতকে গুরুত্বপূর্ণ বন্ধু মনে করেন বলে বিবৃতি
ইরানের দূতাবাস, হায়দরাবাদভারত ও চীন সভ্যতাকে লালন করেছে বলে মন্তব্য
ভারতীয়-মার্কিন কংগ্রেসম্যান অমি বেরামন্তব্যকে ‘অজ্ঞতা’ ও প্রেসিডেন্টের মর্যাদার অবমাননা বলেছেন
কংগ্রেসম্যান রাজা কৃষ্ণমূর্তিঘটনাকে দুর্ভাগ্যজনক এবং মার্কিন মূল্যবোধের পরিপন্থী বলেছেন

ভারতের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ লিখেছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উচিত মার্কিন প্রেসিডেন্টের কাছে বিষয়টি তুলে জোরালো আপত্তি জানানো। এর পাশাপাশি দলটি মোদী সরকারের ‘নিষ্ক্রিয়তা’ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে।

ভারত-যুক্তরাষ্ট্র দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে কতটা ধাক্কা লাগল?

এই বিতর্ক ভারত-যুক্তরাষ্ট্র কূটনৈতিক সম্পর্কের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ট্রাম্প ও মোদীর মধ্যে ব্যক্তিগত সুসম্পর্ক থাকলেও গত বছর শুল্ক নিয়ে দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্কে কিছুটা টানাপড়েন তৈরি হয়েছিল, যা এখনো আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে। এর উপর এই ঘটনা দুই দেশের কূটনৈতিক পরিবেশকে আরও জটিল করে তুলেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী মাসে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর ভারত সফরের আগে এই বিতর্কটি একটি বড় অস্বস্তিকর পরিস্থিতির জন্ম দিয়েছে। বিশেষত এইচ-ওয়ানবি ভিসা, প্রযুক্তি খাতের অভিবাসন নীতি এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির ক্ষেত্রে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

উল্লেখ্য, ভারত সরকারের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৫৫ লাখ ভারতীয় বংশোদ্ভূত মানুষ বসবাস করছেন, যারা দেশটির অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।

আরো পড়ুন: বয়সের ভারে কি বেপরোয়া ডোনাল্ড ট্রাম্প? রয়টার্স জরিপে মার্কিন রাজনীতিতে নতুন তোলপাড়!

‘America First’ নীতি ও ভারতীয় অভিবাসীরা

ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির অংশ হিসেবে অভিবাসন সীমিত করার দাবি বারবার সামনে এসেছে। স্যাভেজের বক্তব্যে ভারতীয় ও চীনা প্রযুক্তিকর্মীদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে — যেমন টেক কোম্পানিতে নিজেদের দেশের লোকদের প্রাধান্য দেওয়া এবং স্থানীয় শ্বেতাঙ্গ মার্কিনদের বঞ্চিত করা — তা নতুন করে প্রযুক্তি খাতে বৈষম্যের বিতর্ককে উসকে দিয়েছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই পোস্ট শেয়ার করার পেছনে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব ইস্যুকে সুপ্রিম কোর্টের রায়ের আগে আরও সামাজিকভাবে জনপ্রিয় করে তোলার রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে।

তবে এই কৌশল ভারতের মতো একটি কৌশলগত অংশীদার দেশের সঙ্গে সম্পর্কে ফাটল ধরানোর ঝুঁকি তৈরি করেছে বলেও সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা।

শেষ কথা: ভারত যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক

ভারত যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের ইতিহাসে এই ধরনের বাকবিতণ্ডা নতুন নয়, তবে এবারের ঘটনার মাত্রা একটু আলাদা। একজন প্রেসিডেন্ট নিজে কিছু না বলেও বিতর্কিত মন্তব্য শেয়ার করার মাধ্যমে কূটনৈতিক টানাপড়েনে জড়িয়ে গেলেন — এটি ডিজিটাল যুগের রাজনীতির একটি নতুন মাত্রা। পরের দিন ট্রাম্পের ‘ভোলবদল’ এবং দূতাবাসের দ্রুত বিবৃতি প্রমাণ করে যে, মন্তব্যটি প্রত্যাশার চেয়ে বেশি চাপ তৈরি করেছিল।

আগামী দিনে মার্কো রুবিওর ভারত সফর এবং সুপ্রিম কোর্টের জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের রায় — দুটি ঘটনাই ভারত-মার্কিন সম্পর্কের গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকরা এই মুহূর্তে দুই দেশের সরকারি যোগাযোগের উপর নজর রাখছেন।

এই ধরনের আন্তর্জাতিক সংবাদ ও ভারত যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের সর্বশেষ আপডেটের জন্য আমাদের ওয়েবসাইট বুকমার্ক করে রাখুন। বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করুন এবং এই বিষয়ে আপনার মতামত জানান। 🔔

Disclaimer: এই প্রতিবেদনটি প্রকাশিত সংবাদ সূত্র ও অফিসিয়াল বিবৃতির উপর ভিত্তি করে তৈরি। এটি কোনো পক্ষের রাজনৈতিক অবস্থানকে সমর্থন বা বিরোধিতা করে না।

Juger Alo Facebook Pageযুগের আলো’র সর্বশেষ খবর পেতে Facbook Page অনুসরণ করুন

Juger Alo

যুগের আলো — নতুন তথ্যের নির্ভরযোগ্য ঠিকানা। আমরা শিক্ষা, ক্যারিয়ার, সর্বশেষ প্রযুক্তি এবং সমসাময়িক খবরের সঠিক ও বস্তুনিষ্ঠ আপডেট পৌঁছে দিই সবার আগে। সঠিক তথ্যে নিজেকে আপডেট রাখতে আমাদের সাথেই থাকুন।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now