---Advertisement---

ট্যাক্স-ফ্রি নয়, সরকারি গাড়ি চেয়েছি, আমার বক্তব্য ঘিরে বিভ্রান্তি ছড়ানো হয়েছে : হাসনাত আবদুল্লাহ

April 22, 2026 6:09 PM
সংসদে শুল্কমুক্ত গাড়ির পরিবর্তে সরকারি গাড়ির প্রস্তাব দিচ্ছেন এমপি হাসনাত আবদুল্লাহ- Juger Alo
---Advertisement---

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: শুল্কমুক্ত (ট্যাক্স-ফ্রি) গাড়ি নয়, বরং সরকারি কর্মকর্তাদের মতো সংসদ সদস্যদের ব্যবহারের জন্য সরকারি মালিকানাধীন গাড়ি চেয়েছেন বলে জানিয়েছেন কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। বুধবার (২২ এপ্রিল) বিকেলে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১৯তম দিনে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে তিনি এই তথ্য জানান।

হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, গত মঙ্গলবার সংসদে তার দেওয়া বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়ানো হয়েছে। তিনি পরিষ্কার করেন যে, এই সংসদের সদস্যরা কোনো ধরনের ব্যক্তিগত শুল্কমুক্ত গাড়ি বা প্লট সুবিধা গ্রহণ করবেন না। বরং দাপ্তরিক কাজ পরিচালনার জন্য একটি রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণ অঞ্চলের এই মুখ্য সংগঠক বলেন, জনপ্রতিনিধি হিসেবে মাঠ পর্যায়ে কাজ করতে একটি বাহন প্রয়োজন, তবে সেটি ব্যক্তিগত মালিকানায় নেওয়ার পক্ষপাতী নন তারা। বর্তমান প্রেক্ষাপটে জনগণের আস্থার প্রতি সম্মান জানিয়েই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আরো পড়ুন: ডিজেলের প্রভাবে এলপিজিতে অস্থিরতা: চলতি মে মাসে দ্বিতীয় দফায় বাড়ল গ্যাসের দাম

বক্তব্য ঘিরে বিভ্রান্তি ও হাসনাত আবদুল্লাহর স্পষ্টীকরণ

সংসদ অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, “আমি পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, গতকালের বক্তব্যে আমি কোনো ট্যাক্স-ফ্রি গাড়ি চাইনি। ট্যাক্স-ফ্রি প্লট ও গাড়ির যে বিষয়টি রয়েছে, সেটি অলরেডি এই সংসদের পুরো হাউস ঐক্যবদ্ধভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে তারা এটি নেবে না।”

তিনি আরও বলেন, “এই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রত্যেক এমপি সেটির জন্য একটি অনন্য নজির স্থাপন করেছেন। কিন্তু কিছু মিডিয়াতে আমার বক্তব্যকে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে যেন আমি ব্যক্তিগত সুবিধা চাচ্ছি। এটি সম্পূর্ণ ভুল এবং বিভ্রান্তিকর।”

হাসনাত আবদুল্লাহ জানান, ব্যক্তিগত সম্পদ বৃদ্ধির বদলে রাষ্ট্রীয় সম্পদ ব্যবহারের সংস্কৃতি চালু করতেই তিনি এই প্রস্তাব দিয়েছেন। জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে তাদের দায়বদ্ধতা সবার উপরে।

সংসদ সদস্যদের জন্য সরকারি গাড়ি বরাদ্দের প্রস্তাব

হাসনাত আবদুল্লাহ তার বক্তব্যে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তাদের উদাহরণ টেনে আনেন। তিনি বলেন, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, উপজেলা চেয়ারম্যান, পৌর মেয়র, জেলা প্রশাসক (ডিসি), উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং এসিল্যান্ডসহ অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তারা যেভাবে সরকারি গাড়ি পেয়ে থাকেন, সংসদ সদস্যদের জন্যও একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা যেতে পারে।

তার প্রস্তাবিত মডেলের প্রধান দিকগুলো হলো:

  • গাড়িটি সম্পূর্ণ সরকারি মালিকানাধীন থাকবে এবং সরকারের নামেই রেজিস্ট্রেশন হবে।
  • সংসদ সদস্য তার মেয়াদে থাকাকালীন কেবল দাপ্তরিক কাজে এটি ব্যবহার করবেন।
  • পদের মেয়াদ শেষ হওয়ার সাথে সাথে গাড়িটি যথাযথ প্রক্রিয়ায় সরকারকে বুঝিয়ে দিতে হবে।
  • এই গাড়ি কোনোভাবেই অন্য কাজে বা ব্যক্তিগত পারিবারিক কাজে ব্যবহারযোগ্য হবে না।

রক্ষণাবেক্ষণ খরচ ও রাষ্ট্রীয় অর্থের সাশ্রয়

সংসদ সদস্যদের জন্য বর্তমানে বিদ্যমান আর্থিক সুবিধার কথা উল্লেখ করে হাসনাত আবদুল্লাহ এক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “আমাদের সংসদ সদস্যদের ইতিমধ্যে সত্তর হাজার টাকা গাড়ি মেইনটেন্যান্স করার জন্য দেওয়া হয়। কিন্তু আমাদের অনেকেরই নিজস্ব গাড়ি নেই।”

তিনি প্রস্তাব করেন যে, নতুন করে শুল্কমুক্ত গাড়ি কেনার সুযোগ দেওয়ার চেয়ে সরকারি পুলের গাড়ি ব্যবহার করা অনেক বেশি সাশ্রয়ী। এতে সরকারের আলাদা কোনো অতিরিক্ত খরচ লাগবে না। মেইনটেন্যান্সের জন্য যে অর্থ বরাদ্দ রয়েছে, সেটি দিয়েই এই সরকারি গাড়িগুলো পরিচালনা করা সম্ভব হবে।

এর ফলে একজন সংসদ সদস্যের যাতায়াত ব্যবস্থা যেমন নিশ্চিত হবে, তেমনি রাষ্ট্রীয় কোষাগারের অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হবে বলে তিনি মনে করেন।

আরো পড়ুন: দেশে জ্বালানি তেলের রেকর্ড মূল্যবৃদ্ধি: এক লাফে কত হলো ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেনের দাম?

শুল্কমুক্ত সুবিধা বর্জনে সকল এমপির ঐক্যমত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের একটি বিশেষ দিক উল্লেখ করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, সরকারি দল এবং বিরোধী দল—উভয় পক্ষই একটি বিষয়ে একমত যে তারা প্রচলিত ট্যাক্স-ফ্রি গাড়ি এবং প্লট সুবিধা নেবে না। তিনি এই সিদ্ধান্তকে দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক মাইলফলক বলে অভিহিত করেন।

বিগত দিনগুলোতে শুল্কমুক্ত গাড়ির অপব্যবহার নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভ ছিল। অনেকেই এই গাড়ি কিনে বাজারে বিক্রি করে দিতেন বলে অভিযোগ ছিল। হাসনাত আবদুল্লাহর মতে, এই কলঙ্কময় অধ্যায় থেকে সংসদকে বের করে আনতেই তারা এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

মাঠ পর্যায়ে কাজের লজিস্টিক সাপোর্টের প্রয়োজনীয়তা

একজন সংসদ সদস্যকে তার নির্বাচনী এলাকায় নিয়মিত যাতায়াত এবং দাপ্তরিক কাজে অংশ নিতে হয়। হাসনাত আবদুল্লাহর মতে, এই কাজের জন্য একটি নির্দিষ্ট যানবাহনের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। তিনি বলেন, “আমরা জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করতে চাই। কাজ করার জন্য ন্যূনতম লজিস্টিক সাপোর্ট প্রয়োজন, যা প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তারা পেয়ে থাকেন।”

তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, এই সাপোর্ট হতে হবে সম্পূর্ণ প্রাতিষ্ঠানিক। কোনো এমপি যদি ব্যক্তিগতভাবে গাড়ি কিনতে না পারেন, তবে তার নির্বাচনী এলাকায় কাজ করতে সমস্যা হয়। এই সংকট দূর করতেই সরকারি গাড়ির প্রস্তাবটি আনা হয়েছে।

বিগত সংসদের সাথে বর্তমানের পার্থক্য

হাসনাত আবদুল্লাহ তার বক্তব্যে আরও উল্লেখ করেন যে, এই সংসদ পূর্ববর্তী সংসদগুলোর মতো বিলাসিতার পথে হাঁটতে চায় না। তিনি বলেন, “ট্যাক্স-ফ্রি গাড়ি নিয়ে আমরা কোনো ব্যবসা করতে চাই না। আমরা চাই সরকারি একটি সিস্টেম, যেখানে মেয়াদে থাকা অবস্থায় সুবিধা পাব এবং মেয়াদ শেষে তা ফেরত দেব।”

তিনি বিশ্বাস করেন, এই প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে এবং সাধারণ মানুষও দেখবে যে তাদের প্রতিনিধিরা রাষ্ট্রীয় আইন ও শৃঙ্খলার মধ্য থেকেই সুবিধা গ্রহণ করছেন। এটি সুশাসনের একটি বড় ধাপ।

আরো পড়ুন: ব্যর্থ আলোচনার পর উপযুক্ত সময়ে ইরানকে খতম করার হুমকি দিলেন ট্রাম্প

প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সাথে সমতা আনয়ন

প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সাথে তুলনা করে তিনি বলেন, সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণে সংসদ সদস্যদের ভূমিকা থাকে অপরিসীম। অথচ মাঠ পর্যায়ে কাজ করতে গেলে কর্মকর্তাদের চেয়ে সংসদ সদস্যরা অনেক ক্ষেত্রে সুযোগ-সুবিধার দিক থেকে পিছিয়ে থাকেন।

হাসনাত আবদুল্লাহর প্রস্তাব অনুযায়ী, যদি সরকারি পুল থেকে গাড়ি বরাদ্দ দেওয়া হয়, তবে কাজের সমন্বয় আরও বৃদ্ধি পাবে। ডিসি বা ইউএনওদের মতো সংসদ সদস্যদেরও একটি নির্ধারিত স্ট্যান্ডার্ড মেইনটেইন করার সুযোগ তৈরি হবে।

জনগণ ও রাষ্ট্রের প্রতি দায়বদ্ধতা

হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, “আমরা এমন একটি সমাজ গড়তে চাই যেখানে জনগণের ট্যাক্সের টাকার সঠিক হিসাব থাকবে। শুল্কমুক্ত সুবিধায় সরকার কোটি কোটি টাকার রাজস্ব হারায়। আমরা সেই রাজস্ব ক্ষতি করতে চাই না।”

তিনি মনে করেন, সরকারি গাড়ি ব্যবহারের ফলে রাষ্ট্রের সম্পদ রাষ্ট্রের কাছেই থাকবে। এটি দেশের অর্থনীতির জন্য দীর্ঘমেয়াদী সুফল বয়ে আনবে। জনগণের কাছে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার এটিই শ্রেষ্ঠ উপায়।

বিভ্রান্তি রোধে গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে হাসনাত আবদুল্লাহ গণমাধ্যমকে সঠিক ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রচারের অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের ফলে সংসদ সদস্যদের মহৎ উদ্যোগগুলোও প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, তার এই স্পষ্টীকরণের পর সকল গণমাধ্যম প্রকৃত তথ্যটি জনগণের সামনে তুলে ধরবে।

সংসদে তার এই বক্তব্যের সময় উপস্থিত অন্যান্য সদস্যরাও ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেন। এর ফলে বোঝা যাচ্ছে, সংসদ সদস্যদের জন্য সরকারি মালিকানাধীন গাড়ির এই প্রস্তাবটি ভবিষ্যতে একটি স্থায়ী নীতিমালায় রূপ নিতে পারে।

আরো পড়ুন: ইরানে যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক হামলা করলে পরিণতি কী হবে?

শেষ কথা

হাসনাত আবদুল্লাহর বক্তব্যটি মূলত স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার একটি শক্তিশালী বার্তা বহন করে। শুল্কমুক্ত ব্যক্তিগত সুবিধার পরিবর্তে সরকারি মালিকানাধীন ব্যবস্থার দাবিটি প্রশাসনিক সংস্কারের একটি বড় অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিভ্রান্তি দূর করার মাধ্যমে তিনি যেমন নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন, তেমনি সংসদের মর্যাদাও সমুন্নত রেখেছেন।

বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাসে এই ধরণের সংস্কারমূলক প্রস্তাব ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, সংসদ সচিবালয় বা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এই প্রস্তাবটি কত দ্রুত বাস্তবায়নের পথে হাঁটে। তবে একটি বিষয় পরিষ্কার যে, বর্তমান সংসদের সদস্যরা জনগণের প্রত্যাশা পূরণে নতুন পথে হাঁটতে শুরু করেছেন।

ডিসক্লেইমার: এই সংবাদটি সংসদ অধিবেশনে প্রদত্ত বক্তব্যের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে। কোনো প্রকার বিভ্রান্তি এড়াতে অফিশিয়াল সংসদীয় রেকর্ডের সহায়তা নিন। 📜

Juger Alo Facebook Pageযুগের আলো’র সর্বশেষ খবর পেতে Facbook Page অনুসরণ করুন

Juger Alo

যুগের আলো — নতুন তথ্যের নির্ভরযোগ্য ঠিকানা। আমরা শিক্ষা, ক্যারিয়ার, সর্বশেষ প্রযুক্তি এবং সমসাময়িক খবরের সঠিক ও বস্তুনিষ্ঠ আপডেট পৌঁছে দিই সবার আগে। সঠিক তথ্যে নিজেকে আপডেট রাখতে আমাদের সাথেই থাকুন।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now