---Advertisement---

রংপুরে নির্মিত হচ্ছে অত্যাধুনিক বিভাগীয় স্টেডিয়াম: ১৫ একর জমির ওপর দ্রুত কাজ শুরুর ঘোষণা

March 22, 2026 10:09 AM
রংপুর বিভাগীয় স্টেডিয়াম প্রকল্পের প্রস্তাবিত স্থান ও আধুনিক স্টেডিয়াম ডিজাইন
---Advertisement---

রংপুরবাসীর দীর্ঘ প্রতীক্ষিত রংপুর বিভাগীয় স্টেডিয়াম নির্মাণের কাজ দ্রুত শুরু করতে বড় ধরনের কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। সোমবার (৯ মার্চ ২০২৬) দুপুরে রংপুর বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার আহ্বায়ক কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ সভায় এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভার সভাপতিত্ব করেন বিভাগীয় কমিশনার ও সংস্থার আহ্বায়ক মো. শহিদুল ইসলাম।

নগরীর দেবিপুর মৌজায় ১৫ একর জমির ওপর এই পুর্ণাঙ্গ ক্রীড়া কমপ্লেক্সটি নির্মিত হতে যাচ্ছে। জমি অধিগ্রহণ থেকে শুরু করে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ ও মাটি ভরাটের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ ইতিমধ্যে স্থান নির্বাচন সম্পন্ন করায় প্রকল্পটি এখন দৃশ্যমান হওয়ার পথে এক ধাপ এগিয়ে গেল।

রংপুর বিভাগের ক্রীড়াঙ্গনকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে এই স্টেডিয়ামটি মেরুদণ্ড হিসেবে কাজ করবে। মূলত মাদকমুক্ত সমাজ গঠন এবং তরুণ প্রজন্মের শারীরিক বিকাশের লক্ষ্যেই এই মেগা প্রকল্পটি হাতে নেওয়া হয়েছে। প্রশাসন আশা করছে, প্রশাসনিক প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করে মাঠ পর্যায়ের কাজ অল্প সময়ের মধ্যেই শুরু করা সম্ভব হবে।

রংপুরে নতুন দিগন্ত: ১৫ একর জমিতে বিশাল ক্রীড়া কমপ্লেক্স

রংপুর নগরীর দেবিপুর মৌজায় প্রস্তাবিত রংপুর স্টেডিয়াম নির্মাণের জন্য ১৫ একর জমি নির্ধারণ করা হয়েছে। সোমবারের সভায় বিভাগীয় কমিশনার মো. শহিদুল ইসলাম জানান, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ ইতিমধ্যে সাইট ভিজিট করে এই জমি চূড়ান্ত করেছে। এটি কেবল একটি মাঠ নয়, বরং একটি পূর্ণাঙ্গ আধুনিক ক্রীড়া কমপ্লেক্স হিসেবে গড়ে উঠবে।

বর্তমানে প্রকল্পের জন্য দৃশ্যমান তদন্ত (Feasibility Study) এবং প্রশাসনিক অনুমোদনের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। প্রকল্পের দ্রুত বাস্তবায়নের স্বার্থে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ এবং নিচু জমি ভরাটের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে নিবিড় যোগাযোগ রক্ষার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জমি অধিগ্রহণের অর্থ ছাড়ের বিষয়টিও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

আরও পড়ুন: ফ্যামিলি কার্ড কী ও কীভাবে পাবেন? আবেদন করার নিয়ম, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও বিস্তারিত গাইড ২০২৬

ক্রীড়াঙ্গনে ফিরবে প্রাণ: নিয়মিত টুর্নামেন্ট আয়োজনের সিদ্ধান্ত

কেবল অবকাঠামো নির্মাণই নয়, রংপুরের ঝিমিয়ে পড়া ক্রীড়াঙ্গনকে চাঙ্গা করতে সভায় বেশ কিছু যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রশাসন চাইছে স্টেডিয়াম হওয়ার আগেই খেলার মাঠগুলোকে মুখরিত রাখতে। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এখন থেকে নিয়মিত আয়োজন করা হবে:

  • বিভাগীয় কমিশনার গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট।
  • বিভাগীয় পর্যায়ের ক্রিকেট ও ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্ট।
  • কৃতি খেলোয়াড় ও চ্যাম্পিয়নদের জন্য বিশেষ সংবর্ধনা অনুষ্ঠান।

এই উদ্যোগগুলো রংপুরের তরুণদের খেলার প্রতি আরও আগ্রহী করে তুলবে বলে বিশ্বাস করেন সংশ্লিষ্টরা। সভায় জানানো হয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের ক্রীড়া সংস্থাগুলোর কার্যক্রম নিয়মিত মনিটর করা হবে।

মাদক নিরসনে শক্তিশালী হাতিয়ার হবে এই স্টেডিয়াম

মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই। সভায় উপস্থিত সদস্যরা একমত পোষণ করেন যে, Rangpur Stadium বা এই নতুন কমপ্লেক্সটি বাস্তবায়িত হলে যুবসমাজ মাঠমুখী হবে। বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার স্থায়ী অফিস স্থাপনের উদ্যোগও এই সভায় চূড়ান্ত করা হয়েছে।

বিভাগীয় কমিশনার বলেন, “রংপুরের খেলোয়াড়দের প্রতিভা সারা দেশে সমাদৃত। একটি পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক মানের স্টেডিয়াম না থাকায় তারা পিছিয়ে পড়ছিল। এই প্রকল্পের কাজ শেষ হলে রংপুর বিভাগ ক্রীড়া ক্ষেত্রে জাতীয় পর্যায়ে নেতৃত্ব দেবে।”

প্রকল্পের একনজরে তথ্যচিত্র (টেবিল)

বিষয়ের নামবিস্তারিত তথ্য
প্রকল্পের নামরংপুর বিভাগীয় স্টেডিয়াম ও ক্রীড়া কমপ্লেক্স
অবস্থানদেবিপুর মৌজা, রংপুর নগরী
জমির পরিমাণ১৫ একর
বর্তমান অবস্থাজমি অধিগ্রহণ ও তদন্ত (Feasibility Study) চলমান
প্রধান উদ্যোগীবিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা ও জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ
লক্ষ্যআধুনিক ক্রীড়া অবকাঠামো ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠন

আরও পড়ুন: জাইমা রহমান কেন সামাজিক মাধ্যমে ‘টার্গেট’? ভিডিওর নেপথ্যে যা জানালো বিবিসি

স্থানীয় নেতৃত্বের ভূমিকা ও উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ

বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার এই গুরুত্বপূর্ণ সভায় স্থানীয় ক্রীড়া সংগঠকদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সভায় উপস্থিত ছিলেন আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সামসুজ্জামান সামু, মির্জা ফয়সাল আমিন এবং শামীম খান মিসকিন। এছাড়া সরকার মাজহারুল মান্নান, তারেক আহমেদ রুবেন ও সাজ্জাদ হোসেন পৃথিবীসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ প্রকল্পের গতি বাড়াতে তাদের পরামর্শ প্রদান করেন।

অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে যে, বর্তমানে চালু থাকা রংপুর স্টেডিয়ামকে কী বলে? সাধারণত এটি রংপুর জিলা স্কুল মাঠ সংলগ্ন জেলা স্টেডিয়াম হিসেবে পরিচিত। তবে নতুন এই বিভাগীয় স্টেডিয়ামটি হবে অনেক বেশি আধুনিক এবং আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজনের উপযোগী। সংস্কার বিভাগীয় সদস্য সচিব আব্দুল ফারুক সভার শুরুতে প্রকল্পের কারিগরি দিকগুলো উপস্থাপন করেন।

আরো পড়ুুন: ‘ফ্যামিলি কার্ডে’ পাওয়া যাবে নগদ টাকা, প্রথমে পাবেন যারা: ৫ কোটি পরিবারের জন্য বড় সুখবর!

শেষ কথা

রংপুর বিভাগীয় স্টেডিয়াম নির্মাণ কেবল ইটের দালান নয়, বরং এই অঞ্চলের লাখো ক্রীড়াপ্রেমীর আবেগ। ১৫ একর জমির ওপর এই বিশাল যজ্ঞ শুরু হওয়ার সংবাদে স্থানীয় খেলোয়াড় ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আনন্দের জোয়ার বইছে। জমি অধিগ্রহণ ও সীমানা প্রাচীর নির্মাণের কাজ দ্রুত শেষ হলে খুব শীঘ্রই রংপুরের আকাশে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ফ্লাডলাইট জ্বলবে।

প্রশাসনের এই তৎপরতা যদি মাঠ পর্যায়ে সঠিক সময়ে বাস্তবায়িত হয়, তবে রংপুর থেকে আরও অনেক কৃতি খেলোয়াড় জাতীয় দলে জায়গা করে নিতে পারবে। মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার যে অঙ্গীকার নিয়ে এই প্রকল্প শুরু হয়েছে, তা সফল করতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।

আপনি কি মনে করেন এই স্টেডিয়ামটি রংপুরের অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তন আনবে? আপনার মতামত নিচে কমেন্ট করে জানান। নিয়মিত রংপুরের খবরাখবর এবং খেলাধুলার আপডেট পেতে আমাদের ওয়েবসাইটটি বুকমার্ক করে রাখুন এবং বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন।

Disclaimer: এই সংবাদটি ৯ মার্চ ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত সভার তথ্যের ভিত্তিতে পরিবেশিত। প্রকল্পের নির্মাণকাল এবং বাজেট সরকারের চূড়ান্ত অনুমোদনের ওপর নির্ভরশীল। পরবর্তী আপডেট পেতে অফিসিয়াল সোর্সের ওপর নজর রাখুন।

Facbookযুগের আলো’র সর্বশেষ খবর পেতে Facbook Page অনুসরণ করুন

Juger Alo

যুগের আলো — নতুন তথ্যের নির্ভরযোগ্য ঠিকানা। আমরা শিক্ষা, ক্যারিয়ার, সর্বশেষ প্রযুক্তি এবং সমসাময়িক খবরের সঠিক ও বস্তুনিষ্ঠ আপডেট পৌঁছে দিই সবার আগে। সঠিক তথ্যে নিজেকে আপডেট রাখতে আমাদের সাথেই থাকুন।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now