---Advertisement---

আপনার কি সঞ্চয়পত্র আছে? রিটার্ন জমার এই নতুন নিয়ম না জানলে লোকসান আপনারই!

March 22, 2026 10:10 AM
২০২৬ সালের নতুন সঞ্চয়পত্র আয়কর রিটার্ন দাখিলের নিয়ম এবং ট্যাক্স কমানোর উপায়
---Advertisement---

বাংলাদেশে নিরাপদ বিনিয়োগের অন্যতম মাধ্যম হলো সঞ্চয়পত্র। তবে ২০২৬ সালের নতুন অর্থ আইন অনুযায়ী, সঞ্চয়পত্র আয়কর রিটার্ন দাখিলের নিয়ম সম্পর্কে সঠিক ধারণা রাখা এখন প্রতিটি বিনিয়োগকারীর জন্য বাধ্যতামূলক। অনেকে মনে করেন সঞ্চয়পত্র থাকলে বুঝি রিটার্ন দেওয়ার প্রয়োজন নেই, কিন্তু এই ভুল ধারণাই হতে পারে আপনার বড় আর্থিক ক্ষতির কারণ।

আসলে আপনার সঞ্চয়পত্রের মুনাফা থেকে ব্যাংক বা পোস্ট অফিস আগেই ৫% বা ১০% হারে ট্যাক্স কেটে রাখে। আপনি যদি সঠিক পদ্ধতিতে রিটার্ন জমা না দেন, তবে এই কেটে রাখা টাকা ফেরত বা সমন্বয় করার কোনো সুযোগ থাকে না। ফলে দিনশেষে আপনার কষ্টার্জিত বিনিয়োগ থেকে একটি বড় অংকের লোকসান হয়ে যায়।

আজকের এই বিস্তারিত গাইডে আমরা ২০২৬ সালের সর্বশেষ সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী সঞ্চয়পত্রের আয় দেখানোর সঠিক পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করব। আপনি একজন সাধারণ বিনিয়োগকারী হোন বা পেনশনার—এই গাইডটি অনুসরণ করলে আপনি অপ্রয়োজনীয় জরিমানা এবং লোকসান থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারবেন। 😊

সঞ্চয়পত্র থাকলে কি আয়কর দিতে হবে?

অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে, সঞ্চয়পত্র থাকলে কি আয়কর দিতে হবে? সহজ উত্তর হলো—আপনার আয়ের ওপর কর দিতে হবে। তবে ব্যাংক মুনাফা দেওয়ার সময় এই কর স্বয়ংক্রিয়ভাবে কেটে রাখে।

২০২৬ সালের নিয়ম অনুযায়ী, সঞ্চয়পত্রে ৫ লক্ষ টাকার বেশি বিনিয়োগ থাকলে রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক। তবে ৫ লক্ষ টাকার কম বিনিয়োগে এবং অন্য আয় না থাকলে রিটার্ন না দিলেও চলে।

কিন্তু বর্তমানে ৪৩টির বেশি সরকারি সেবা পেতে রিটার্ন জমার প্রমাণপত্র বা PSR সংগ্রহ করা নিরাপদ। আপনি যদি রিটার্ন দাখিল না করেন, তবে কেটে রাখা অগ্রিম ট্যাক্স সমন্বয় করার সুযোগ হারাবেন।

আয়কর রিটার্ন ছাড়া কত টাকার সঞ্চয়পত্র কেনা যায়?

২০২৬ সালের নতুন প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত সঞ্চয়পত্র কেনায় আয়কর রিটার্ন জমার প্রমাণপত্র (PSR) দাখিল করতে হবে না। এটি ছোট বিনিয়োগকারীদের জন্য বড় সুখবর।

তবে বিনিয়োগ ১০ লক্ষ টাকার বেশি হলে অবশ্যই রিটার্ন দাখিলের রসিদ জমা দিতে হবে। মনে রাখবেন, রিটার্ন না দিলে পরবর্তী বছর সঞ্চয়পত্র পুনর্নিয়োগ বা নতুন ক্রয় করা কঠিন হতে পারে।

১০ লক্ষ টাকার বেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সাথে টিন (TIN) এবং রিটার্ন স্লিপ বাধ্যতামূলক। এটি না থাকলে আপনার মুনাফা উত্তোলনও আটকে যেতে পারে।

সঞ্চয়পত্রের মুনাফা কি আয়কর মুক্ত?

অনেকে জানতে চান সঞ্চয়পত্রের মুনাফা কি আয়কর মুক্ত? আসলে সাধারণ সঞ্চয়পত্রের মুনাফা পুরোপুরি করমুক্ত নয়। তবে পেনশনার সঞ্চয়পত্রের ক্ষেত্রে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত মুনাফা করমুক্ত থাকে।

৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত সাধারণ বিনিয়োগে মুনাফার ওপর ৫% এবং এর বেশি বিনিয়োগে ১০% কর দিতে হয়। এই কেটে রাখা টাকাই হলো আপনার অগ্রিম আয়কর।

যাদের বাৎসরিক আয় করমুক্ত সীমার নিচে, তারা রিটার্ন জমা দিয়ে এই কেটে রাখা টাকা রিফান্ড বা সমন্বয় করতে পারেন। এর ফলে আপনার কোনো বাড়তি টাকা লোকসান হবে না।

[আরো পড়ুন: ২০২৬ সালের নতুন আয়কর রিটার্ন ফরম পূরণের ডিজিটাল নিয়ম সম্পর্কে এখানে পড়ুন]

সঞ্চয়পত্রের সুদের ওপর আয়কর কিভাবে বের করতে হয়?

২০২৬ সালে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার ওপর ট্যাক্স হার বিনিয়োগের পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হয়। নিচের টেবিলটি লক্ষ্য করলে আপনার লোকসান এড়ানো সহজ হবে:

বিনিয়োগের পরিমাণউৎসে করের হার (TDS)
৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত (পারিবারিক/পেনশনার)৫%
৫ লক্ষ টাকার বেশি বিনিয়োগ হলে১০%
প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগের ক্ষেত্রে১০% – ২০%

আপনি যদি হাতে-কলমে শিখতে চান যে সঞ্চয়পত্রের সুদের ওপর আয়কর কিভাবে বের করতে হয়, তবে নিচের ক্যালকুলেটর টেবিলটি দেখুন। এটি ১০% কর হারের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে:

বার্ষিক মুনাফা (টাকা)ব্যাংক কেটে রাখবে (TDS)আপনি হাতে পাবেন (Net)রিটার্নে কত দেখাতে হবে?
৫০,০০০৫,০০০৪৫,০০০৫০,০০০
১,০০,০০০১০,০০০৯০,০০০১,০০,০০০
২,০০,০০০২০,০০০১,৮০,০০০২,০০,০০০

সতর্কতা: আপনার হাতে পাওয়া টাকা নয়, বরং ব্যাংক যা কেটে রেখেছে সেই ‘Gross’ অংকটিই আয় হিসেবে রিটার্নে দেখাতে হবে।

১০০% কর ছাড়ের উপায়?

অনেকে ইন্টারনেটে ১০০% কর ছাড়ের উপায় খোঁজেন। আসলে সাধারণ করদাতার জন্য সব আয়ের ওপর ১০০% কর ছাড় পাওয়া প্রায় অসম্ভব। তবে নির্দিষ্ট কিছু পন্থায় কর শূন্যে নামিয়ে আনা যায়।

যদি আপনার সঞ্চয়পত্রের আয় এবং অন্য সব উৎস থেকে আয় বাৎসরিক ৩.৫ লক্ষ টাকার নিচে থাকে, তবে আপনার কোনো ট্যাক্স দিতে হবে না। একেই মূলত জিরো ট্যাক্স বলা হয়।

এছাড়াও সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করে আপনি আপনার মোট করযোগ্য আয়ের ওপর ১৫% পর্যন্ত কর রেয়াত বা রিবেট পেতে পারেন। এটি আপনার প্রদেয় করের বোঝা অনেক কমিয়ে আনে।

আয়কর রিটার্ন করতে কি কি লাগে? (H2)

সঞ্চয়পত্রের আয়সহ আয়কর রিটার্ন করতে কি কি লাগে? নিচের চেকলিস্টটি আবেদনের আগে গুছিয়ে নিন:

  • ১২ ডিজিটের ই-টিন (e-TIN) সার্টিফিকেট ও এনআইডি কপি।
  • ব্যাংক থেকে সংগ্রহ করা মুনাফা ও ট্যাক্স সার্টিফিকেট (TDS Certificate)।
  • সঞ্চয়পত্র ক্রয়ের মূল রসিদের কপি এবং ব্যাংক স্টেটমেন্ট।
  • যদি আপনি চাকরিজীবী হন, তবে বেতন বিবরণী বা স্যালারি সার্টিফিকেট।

[আরো পড়ুন: আপনার ই-টিনটি সঠিক আছে কি না তা যাচাই করার পদ্ধতি দেখে নিন]

সঞ্চয়পত্র আয়কর রিটার্ন দাখিলের নিয়ম

অনলাইনে রিটার্ন দাখিলের সময় সঞ্চয়পত্রের তথ্য ইনপুট দেওয়ার সঠিক পদ্ধতি নিচে দেওয়া হলো:

১. আয়ের উৎস নির্বাচন: ই-রিটার্ন পোর্টালে লগইন করার পর ‘Sources of Income’ সেকশনে যান। এখান থেকে ‘Income from Financial Assets’ ক্যাটাগরি সিলেক্ট করুন।

২. মুনাফার তথ্য প্রদান: আপনার ব্যাংক থেকে একটি ‘Tax Certificate’ সংগ্রহ করুন। সেখানে সারা বছরের মুনাফা এবং ট্যাক্স কাটার হিসাব থাকে। সেই অনুযায়ী ‘Gross Interest’ ঘরে মুনাফার অংকটি বসান।

৩. উৎসে কর (TDS) সমন্বয়: এটি সবচেয়ে জরুরি ধাপ। ‘Tax Paid/Deducted’ সেকশনে গিয়ে সঞ্চয়পত্রের মুনাফা থেকে কেটে রাখা করের পরিমাণটি উল্লেখ করুন। এটি আপনার মোট ট্যাক্স থেকে বিয়োগ হবে।

৪. সম্পদ বিবরণী: আপনার মোট সম্পদের বিবরণী বা ‘Assets and Liabilities’ পাতায় সঞ্চয়পত্রের আসল অংকটি (বিনিয়োগকৃত টাকা) দেখাতে হবে।

সাধারণ ভুল যা আপনার লোকসান বাড়িয়ে দেবে

সঞ্চয়পত্র আয়কর রিটার্ন দাখিলের নিয়ম অনুসরণ করার সময় অনেকেই কিছু মারাত্মক ভুল করেন। ব্যাংক থেকে সার্টিফিকেট না নিলে আপনার কত টাকা ট্যাক্স কাটা হয়েছে তা আপনি প্রমাণ করতে পারবেন না।

অনেকে মনে করেন ব্যাংক তো ট্যাক্স কেটেই নিয়েছে, তাই জানানোর দরকার নেই। এটি ভুল, এতে আপনার ট্যাক্স ফাইল অডিটে পড়তে পারে।

সব সময় ১২ ডিজিটের ই-টিন এবং আপডেটেড তথ্য ব্যবহার করুন। সঠিক তথ্য না দিলে জরিমানা হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

আরও পড়ুন: বিকাশ ও নগদ ভিসা কার্ড: কোনটি আপনার জন্য সেরা? ২০২৬ সালের সুবিধা, চার্জ ও বিস্তারিত তুলনা

আপনাদের প্রশ্ন আমাদের উত্তর: (FAQ)

১. সঞ্চয়পত্রের মুনাফা কি হালাল?

উত্তর: ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে সঞ্চয়পত্রের মুনাফাকে ‘সুদ’ হিসেবে গণ্য করা হয়, যা ইসলামি শরীয়ত অনুযায়ী হারাম। আপনি যদি ধর্মীয় বিধান মেনে চলতে চান, তবে ইসলামি বন্ড বা সুকুক বিনিয়োগ বেছে নিতে পারেন।

২. সঞ্চয়ী হিসাবের টাকার উপর কত টাকা কর দিতে হয়?

উত্তর: ব্যাংক সেভিংস অ্যাকাউন্টের সুদের ওপর টিন (TIN) থাকলে ১০% এবং টিন না থাকলে ১৫% উৎস কর দিতে হয়।

৩. সঞ্চয় আয়ের উপর কত টাকা কর দিতে হয়?

উত্তর: সঞ্চয়পত্রের ক্ষেত্রে আয়ের ওপর ৫% থেকে ১০% এবং সাধারণ ব্যাংক সঞ্চয়ের ক্ষেত্রে ১০% থেকে ১৫% কর প্রযোজ্য হয়।

শেষ কথা

পরিশেষে, আপনার কষ্টার্জিত বিনিয়োগকে সুরক্ষিত রাখতে সঞ্চয়পত্র আয়কর রিটার্ন দাখিলের নিয়ম মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি। ব্যাংক যে ট্যাক্স কেটে রাখছে, তা আপনার আমানত।

সঠিক সময়ে রিটার্ন না দিলে শুধু জরিমানাই নয়, ব্যাংক সুবিধা থেকেও বঞ্চিত হতে পারেন। ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত শিথিলতা থাকলেও নিজের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে রিটার্ন দাখিল করে রাখা নিরাপদ।

এই গাইডটি আপনার পরিবার ও পরিচিত সঞ্চয়পত্রধারীদের সাথে শেয়ার করে তাদের লোকসান থেকে বাঁচান। আয়কর সংক্রান্ত আরও আপডেট পেতে আমাদের ওয়েবসাইটটি বুকমার্ক করে রাখুন।

Disclaimer: এই আর্টিকেলের তথ্যসমূহ ২০২৬ সালের নিয়ম অনুযায়ী সাধারণ টিপস হিসেবে দেওয়া হয়েছে। চূড়ান্ত হিসাবের জন্য সর্বদা এনবিআর (NBR) এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট অনুসরণ করুন।

Google_Newsযুগের আলো’র সর্বশেষ খবর পেতে Google News নিউজ অনুসরণ করুন

Juger Alo

যুগের আলো — নতুন তথ্যের নির্ভরযোগ্য ঠিকানা। আমরা শিক্ষা, ক্যারিয়ার, সর্বশেষ প্রযুক্তি এবং সমসাময়িক খবরের সঠিক ও বস্তুনিষ্ঠ আপডেট পৌঁছে দিই সবার আগে। সঠিক তথ্যে নিজেকে আপডেট রাখতে আমাদের সাথেই থাকুন।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now