বাংলাদেশের বেকার যুবকদের জন্য কর্মসংস্থানের এক বিশাল দুয়ার খুলে দিচ্ছে সরকার। শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের বাইরে থাকা (NEET) তরুণদের দক্ষ করে তুলতে শুরু হচ্ছে সরকারি ফ্রি কোর্স ২০২৬। সরকারের এই বিশেষ উদ্যোগের মাধ্যমে প্রায় ২ লাখ ২২ হাজার ৫০০ জন তরুণ-তরুণীকে কারিগরি ও হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে।
অ্যাক্সেলারেটিং অ্যান্ড স্ট্রেংদেনিং স্কিলস ফর ইকোনমিক ট্রান্সফরমেশন বা অ্যাসেট (ASSET) প্রকল্পের আওতায় এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে। যেখানে মূল মন্ত্র হলো— “যেখানে প্রশিক্ষণ, সেখানেই চাকরি”। অর্থাৎ প্রশিক্ষিত জনবলকে সরাসরি দেশের বিভিন্ন নামী শিল্পকারখানায় কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেওয়া হবে।
এই প্রকল্পের অধীনে ১ এপ্রিল ২০২৬ থেকে পরবর্তী ব্যাচের ক্লাস শুরু হতে যাচ্ছে। দেশের শিল্পকারখানা ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে পরিচালিত এই কোর্সগুলোতে অংশ নিয়ে বেকার তরুণরা নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ার সুযোগ পাবেন। 🛠️
অ্যাসেট প্রকল্পের লক্ষ্য ও কর্মসংস্থানের সুযোগ
দেশের অর্থনৈতিক রূপান্তরকে ত্বরান্বিত করতে কারিগরি শিক্ষার বিকল্প নেই। আর এই লক্ষ্যেই কাজ করছে অ্যাসেট প্রকল্প। এই কর্মসূচির আওতায় ৩৩টি ইন্ডাস্ট্রি পার্টনারের অধীনে প্রায় ৭০০টি শিল্পকারখানা ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান যুক্ত রয়েছে।
ইতোমধ্যেই প্রায় ৫০ হাজার প্রশিক্ষণার্থী এই প্রকল্পের মাধ্যমে সফলভাবে প্রশিক্ষণ শেষ করেছেন। আশাব্যঞ্জক তথ্য হলো, প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশ বর্তমানে বিভিন্ন মর্যাদাপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে কর্মরত রয়েছেন। সরাসরি শিল্প মালিকদের তত্ত্বাবধানে এই ASSET Project Training পরিচালিত হওয়ায় তাত্ত্বিক শিক্ষার চেয়ে ব্যবহারিক দক্ষতাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
আরো পড়ুন: মেরী স্টোপস বাংলাদেশে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২৬: আবেদন করুন আজই!
কারা আবেদন করতে পারবেন? (যোগ্যতা)
এই বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশ নিতে হলে আবেদনকারীকে নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে:
- বয়সসীমা: ১৮ থেকে ৪৫ বছর হতে হবে।
- বর্তমান অবস্থা: আবেদনকারীকে অবশ্যই শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের বাইরে থাকতে হবে।
- কাগজপত্র: প্রত্যেকের অবশ্যই জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) থাকতে হবে।
- অগ্রাধিকার: নারী, প্রতিবন্ধী এবং অনগ্রসর বা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্যদের প্রশিক্ষণে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
আরো পড়ুন: রংপুরে প্রাইম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়োগ ২০২৬: যোগ্যতা, দায়িত্ব ও আবেদন পদ্ধতি
প্রশিক্ষণার্থীদের জন্য আর্থিক সুবিধাসমূহ
সরকার কেবল বিনা মূল্যে প্রশিক্ষণই দিচ্ছে না, বরং প্রশিক্ষণকালীন সময়ে আর্থিক সহায়তাও প্রদান করছে। ভাতা সহ ফ্রি প্রশিক্ষণ পাওয়ার মাধ্যমে তরুণরা তাদের দৈনন্দিন খরচ মেটাতে সক্ষম হবে।
আরো পড়ুন
| সুবিধার ধরন | সাধারণ প্রশিক্ষণার্থী | নারী, প্রতিবন্ধী ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী |
| মাসিক প্রশিক্ষণ ভাতা | ১,৫০০ টাকা | ২,০০০ টাকা |
| যাতায়াত ভাতা (প্রতিদিন) | ১০০ টাকা | ১০০ টাকা |
| মাসিক সর্বোচ্চ যাতায়াত ভাতা | ২,৫০০ টাকা | ২,৫০০ টাকা |
বিনা মূল্যে ৬ ধরনের বিশেষ কোর্স
অ্যাসেট প্রকল্পের আওতায় মোট ৬টি ক্যাটাগরিতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। বেকার যুবকদের সরকারি প্রশিক্ষণ প্রদানের লক্ষ্যে কোর্সগুলো এমনভাবে সাজানো হয়েছে যাতে বিভিন্ন স্তরের মানুষ উপকৃত হতে পারে:
১. ইএমটিপি (EMTP): এটি মূলত ৩ দিনের একটি সফট স্কিল কোর্স, যা শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মালিক, সিইও ও ব্যবস্থাপকদের জন্য।
২. এমএমটিপি (MMTP): ১৪ দিনের সফট স্কিল প্রশিক্ষণ, যা মধ্যম পর্যায়ের ব্যবস্থাপকদের দক্ষতা বৃদ্ধি করবে।
৩. এসইউটিপি (SUTP): ২১ দিনের টেকনিক্যাল স্কিল কোর্স, যারা বর্তমানে শিল্পপ্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন তাদের দক্ষতা বাড়াতে।
৪. এডিটিপি (ADTP): ৩ মাসের টেকনিক্যাল স্কিল কোর্স। এখানে অর্ধেক সময় প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে এবং বাকি সময় কারখানায় শিক্ষানবিশ হিসেবে কাজ করতে হবে।
৫. টিএসটিপি (TSTP): ৩ মাসের সরাসরি শিল্পকারখানা ভিত্তিক টেকনিক্যাল প্রশিক্ষণ।
৬. আইএইচটিপি (IHTP): ৬ মাসের দীর্ঘমেয়াদী টেকনিক্যাল স্কিল কোর্স, যেখানে উচ্চতর প্রশিক্ষণ পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
আরো পড়ুন: স্মার্টফোনের দাম বেড়ে কমতে পারে বিক্রি—আসছে কি বড় মন্দা?
প্রশিক্ষণ শেষে সরকারি সনদ ও ক্যারিয়ার
সফলভাবে কোর্স সম্পন্ন করার পর প্রত্যেক প্রশিক্ষণার্থীকে সরকার অনুমোদিত একটি সার্টিফিকেট প্রদান করা হবে। এই সনদটি দেশি-বিদেশি শ্রমবাজারে অত্যন্ত গুরুত্ব বহন করে। বিশেষ করে যারা ফ্রি কম্পিউটার ও টেকনিক্যাল কোর্স খুঁজছেন, তাদের জন্য এটি একটি সুবর্ণ সুযোগ। 🚀
প্রশিক্ষণ কার্যক্রমগুলো সরাসরি শিল্প দক্ষতা পরিষদ এবং চেম্বার অব কমার্সের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হওয়ায় চাকরির বাজারে এই সনদধারীদের চাহিদা সবচেয়ে বেশি থাকে।
[অভ্যন্তরীণ লিঙ্ক এখানে: বাংলাদেশে কারিগরি চাকরির বর্তমান বাজার পরিস্থিতি]
আবেদন প্রক্রিয়া ও ক্লাস শুরুর সময়
আগামী ১ এপ্রিল ২০২৬ থেকে নতুন ব্যাচের ক্লাস শুরু হবে। আগ্রহী প্রার্থীরা অনলাইনে প্রকল্পের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করতে পারবেন।
- ওয়েবসাইট: www.asset-dte.gov.bd
- প্রয়োজনীয় তথ্য: এনআইডি কার্ডের কপি, শিক্ষাগত যোগ্যতার তথ্য এবং সাম্প্রতিক ছবি।
শেষ কথা: সরকারি ফ্রি কোর্স ২০২৬
বাংলাদেশের বিশাল যুবশক্তিকে জনসম্পদে রূপান্তর করতে এই কারিগরি প্রশিক্ষণ ২০২৬ একটি মাইলফলক হতে পারে। বিশেষ করে যারা কোনো প্রাতিষ্ঠানিক কর্মসংস্থান বা পড়াশোনার মধ্যে নেই, তাদের জন্য এটি নিজের পায়ে দাঁড়ানোর শ্রেষ্ঠ উপায়।
সরকারের এই মহতী উদ্যোগ কেবল বেকারত্ব কমাবে না, বরং দেশের শিল্প উৎপাদন বৃদ্ধিতেও সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। আপনার পরিচিত কেউ যদি এমন সুযোগের সন্ধানে থাকে, তবে তার সাথে এই তথ্যটি শেয়ার করে তাকে স্বাবলম্বী হতে সাহায্য করুন।
নিয়মিত এমন সব সরকারি চাকরির খবর ও ফ্রি কোর্সের আপডেট পেতে আমাদের ওয়েবসাইটটি বুকমার্ক করে রাখুন এবং অন্যদের সাথে শেয়ার করুন। 🌟
Disclaimer: এই নিবন্ধটি সরকার কর্তৃক প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তির তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে। আবেদনের পূর্বে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট অফিসিয়াল ওয়েবসাইট (www.asset-dte.gov.bd) থেকে সর্বশেষ আপডেট যাচাই করে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। কোনো প্রকার আর্থিক লেনদেন করার পূর্বে সতর্ক থাকুন।
যুগের আলো’র সর্বশেষ খবর পেতে Google News নিউজ অনুসরণ করুন












