---Advertisement---

সরকার কি রংপুরকে বঞ্চনার ‘ক্ষতিপূরণ’ দেবে? রংপুর বিভাগের উন্নয়নে দীর্ঘদিনের বৈষম্য ও প্রত্যাশা

April 25, 2026 11:41 PM
রংপুরের উন্নয়ন ও দীর্ঘদিনের বাজেট বৈষম্য নিয়ে একটি প্রতিকৃতি যেখানে বঞ্চনার চিত্র ফুটে উঠেছে।- যুগের আলো (Juger Alo)
---Advertisement---

রংপুর বিভাগ ও সিটি করপোরেশন প্রতিষ্ঠার এক দশকের বেশি সময় পার হলেও কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি এই জনপদে। ২০১০ সালে বিভাগ হওয়ার পর থেকে প্রতিবছর বাজেটে চরম বৈষম্যের শিকার হয়েছে এই অঞ্চল।

বর্তমান পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে উত্তরবঙ্গের দুই কোটি মানুষের মনে এখন একটিই বড় প্রশ্ন—দীর্ঘদিনের এই বঞ্চনার কি কোনো ‘ক্ষতিপূরণ’ দেবে নতুন সরকার?

বিগত বছরগুলোতে জাতীয় বাজেটে রংপুরকে অবহেলা করা হয়েছে। বিশেষ করে অবকাঠামো, শিক্ষা এবং কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে এই অবহেলা ছিল চোখে পড়ার মতো।

বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর রংপুরের উন্নয়ন নিয়ে নতুন করে আশার আলো দেখছেন স্থানীয়রা। বঞ্চনার ইতিহাস মুছে সমতাভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনে সরকার কী ভূমিকা নেয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়। 🚀

আরো পড়ুন: রংপুরে ১১টির মধ্যে ৭টি বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ: জ্বালানি সংকটে অন্ধকারে ৮ জেলার লাখো মানুষ

এক নজরে মূল বিষয়সমূহ

বাজেটে বঞ্চনা: ১ শতাংশের নিচে বরাদ্দের বাস্তবতা

দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকেই রংপুর অঞ্চলে বরাদ্দ কম দেওয়া হয়েছে। ২০১০ সালের আগপর্যন্ত রাজশাহী বিভাগের অংশ থাকায় এই বৈষম্য পরিমাপ করা কঠিন ছিল, তবে বিভাগ হওয়ার পরবর্তী চিত্র আরও ভয়াবহ।

তথ্যমতে, ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (ADP) ১ লাখ ৭৬ হাজার ৬ কোটি টাকা বরাদ্দের মধ্যে রংপুর বিভাগের জন্য রাখা হয়েছিল মাত্র ০.৯৮ শতাংশ। অর্থাৎ দেশের মোট বাজেটের ১ শতাংশও এই বিশাল অঞ্চলের জন্য রাখা হয়নি।

একটি স্বাধীন দেশে অঞ্চলবিশেষে কতটা বিমাতাসুলভ আচরণ করা যেতে পারে, তা জনসমক্ষে উন্মোচিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই বৈষম্য নিরসনে সরকারকে গত ১৫ বছরের বরাদ্দের একটি তুলনামূলক চিত্র বা শ্বেতপত্র প্রকাশ করা উচিত। এতে করে বঞ্চনার প্রকৃত স্বরূপ পরিষ্কার হবে এবং ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ সহজ হবে।

মেগা প্রকল্প ও অবকাঠামোগত শূন্যতা

বিগত সরকারের আমলে দেশে ১০টি মেগা প্রকল্প গ্রহণ করা হলেও তার একটিও রংপুরের জন্য ছিল না। এমনকি রংপুর সিটি করপোরেশন দেশের অন্যান্য সিটির তুলনায় বরাবরই সর্বনিম্ন বরাদ্দ পেয়ে আসছে। অনেক সময় উন্নয়ন বাজেটে ‘শূন্য’ টাকা বরাদ্দের বাস্তবতাও ঘটেছে।

উন্নয়নের দাবিতে অগ্রাধিকার পাওয়া প্রকল্পসমূহ:

  • রেলপথ: ঢাকা থেকে রংপুরে সরাসরি দ্রুতগামী উন্নত রেল যোগাযোগ এবং রংপুর-কুড়িগ্রাম-লালমনিরহাটের সঙ্গে ব্রডগেজ রেল যোগাযোগ স্থাপন।
  • তিস্তা মহাপরিকল্পনা: উজানের পানির ৮০ শতাংশই এই বিভাগ দিয়ে প্রবাহিত হয়। ২০২১-২৫ সাল পর্যন্ত নদী রক্ষায় কোনো নতুন প্রকল্প নেওয়া হয়নি, অথচ নদীর কারণে প্রতিবছর লাখ লাখ কোটি টাকার সম্পদ নষ্ট হচ্ছে।
  • অর্থনৈতিক অঞ্চল: জেলাগুলোতে ঘোষিত অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলো কেবল ঘোষণা হিসেবেই আছে, একটিও আলোর মুখ দেখেনি। এগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন।

আরো পড়ুন: দুই মাসে সরকারের কত ধরনের কার্ডের সঙ্গে পরিচিত হলো মানুষ!

শিক্ষা ও উচ্চশিক্ষার অবহেলিত চিত্র

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রায় ১৮ বছর হতে চললেও অবকাঠামোগত সংকট কাটেনি। ২০০৮ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সময় ১০০ কোটি টাকা দিলেও পরবর্তী ধাপের কাজগুলো অর্থের অভাবে থমকে আছে।

২০১৮ সালে যখন দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে হাজার হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে, তখন রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বরাদ্দ ছিল শূন্য! 🎓 এছাড়া নবপ্রতিষ্ঠিত কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্যও পর্যাপ্ত বরাদ্দ এখন সময়ের দাবি।

যেভাবে হতে পারে বঞ্চনার ‘ক্ষতিপূরণ’

রংপুরের মানুষ কোনো ব্যক্তিগত সুবিধা চায় না, তারা চায় রাষ্ট্রের কাছে তাদের ন্যায্য অধিকার। যে দেশে মৃত সরকারি কর্মকর্তার ক্ষতিপূরণ ও পদোন্নতি নিশ্চিত করা হয়, সে দেশে ২ কোটি জীবন্ত মানুষের বঞ্চনার অবসান কেন হবে না? সরকার যেভাবে ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে পারে, তার একটি ধারণা নিচে দেওয়া হলো:

প্রকল্পের নামপ্রয়োজনীয়তা ও প্রভাব
তিস্তা মহাপরিকল্পনাকৃষি ও নদী ভাঙন রোধে এটি হবে গেম চেরঞ্জার।
ব্রহ্মপুত্র সেতু ও রেল সংযোগঢাকার সাথে দূরত্ব কমবে এবং ব্যবসা-বাণিজ্য বৃদ্ধি পাবে।
বিসিক ও অর্থনৈতিক অঞ্চলস্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।
কৃষিভিত্তিক শিল্পআলুর হিমাগার ও কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা স্থাপন।

আরো পড়ুন: দেশে জ্বালানি তেলের রেকর্ড মূল্যবৃদ্ধি: এক লাফে কত হলো ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেনের দাম?

কর্মসংস্থান ও ক্যারিয়ার গাইডলাইন

রংপুর অঞ্চলের বেকারত্ব দূর করতে কেবল সরকারি প্রকল্পের ওপর নির্ভর করলে চলবে না। বেসরকারি উদ্যোগ এবং সরকারি মেগা প্রকল্পের সমন্বয় ঘটলে রংপুরের অর্থনৈতিক চেহারা দ্রুত বদলে যাবে। স্থানীয় শিক্ষিত যুবকদের জন্য জেলায় জেলায় অর্থনৈতিক অঞ্চল বাস্তবায়ন করা এখন সময়ের দাবি।

বেকার সমস্যা সমাধানে রংপুর অঞ্চল থেকে সরকারি উদ্যোগে বিদেশে জনশক্তি রপ্তানির ক্ষেত্রে বিশেষ কোটা বা ব্যবস্থা রাখা যেতে পারে। এতে করে বৈদেশিক রেমিট্যান্সের মাধ্যমে অঞ্চলের অর্থনীতি শক্তিশালী হবে। পাশাপাশি রংপুর অঞ্চলে কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তুলতে হবে যাতে স্থানীয় কৃষকরা তাদের পণ্যের ন্যায্য মূল্য পায়।

কৃষি ও নদী রক্ষা: উত্তরের প্রাণভোমরা

রংপুর মূলত একটি কৃষিপ্রধান অঞ্চল। তামাক, আলু এবং ধান উৎপাদনের জন্য এই মাটির খ্যাতি থাকলেও কৃষকেরা ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত। উজানের দেশ থেকে বাংলাদেশে যে পানি প্রবেশ করে, তার অন্তত ৮০ শতাংশ আসে এই বিভাগ দিয়ে। অথচ নদী সুরক্ষায় বরাদ্দ নগণ্য।

২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত পানি উন্নয়ন বোর্ডের নতুন কোনো প্রকল্প রংপুর বিভাগের জন্য গ্রহণ করা হয়নি। অথচ এই সময়ে কেবল রংপুরের নদীগুলোয় ক্ষতি হয়েছে লাখ লাখ কোটি টাকার সম্পদ। তাই নদী শাসন ও টেকসই বাঁধ নির্মাণ রংপুরের উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য।

আরো পড়ুন: রংপুর শিশু হাসপাতাল: ৩১ কোটি টাকার ভবন পড়ে আছে, ৬ বছরেও চালু হয়নি সেবা

রংপুর বিভাগ ও জেলা সম্পর্কিত সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)

১. রংপুর জেলার ইউনিয়ন কয়টি ও কি কি?

রংপুর জেলায় মোট ৭৬টি ইউনিয়ন রয়েছে। উল্লেখযোগ্য কিছু ইউনিয়ন হলো: আরজিলক্ষ্মীপুর, চন্দনপাট, মমিনপুর, হরিদেবপুর ইত্যাদি।

২. রংপুর কত সালে বিভাগ হয়?

রংপুর ২০১০ সালের ২৫ জানুয়ারি বাংলাদেশের সপ্তম বিভাগ হিসেবে মর্যাদা পায়।

৩. রংপুর বিভাগের জনসংখ্যা কত ২০২৬?

২০২৬ সালের প্রাক্কলন অনুযায়ী রংপুর বিভাগের জনসংখ্যা প্রায় ১ কোটি ৮৫ লাখ থেকে ১ কোটি ৯০ লাখের মধ্যে।

৪. রংপুর বিভাগের জেলা কয়টি ও কী কী?

রংপুর বিভাগের জেলা ৮টি। এগুলো হলো: রংপুর, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, নীলফামারী, লালমনিরহাট, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড়।

৫. রংপুর বিভাগের সবচেয়ে ধনী জেলা কোনটি?

মাথাপিছু আয় ও অর্থনৈতিক কার্যক্রমের দিক থেকে দিনাজপুর জেলাকে এই বিভাগের সবচেয়ে সমৃদ্ধ বা ধনী জেলা হিসেবে গণ্য করা হয়।

৬. রংপুরের বিখ্যাত ব্যক্তি কে কে?

বিখ্যাত ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন—নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন, পরমাণু বিজ্ঞানী ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়া এবং প্রখ্যাত রাজনীতিক মশিউর রহমান যাদু মিয়া

৭. রংপুর বিভাগের পূর্ব নাম কি ছিল?

রংপুর অঞ্চলটি প্রাচীনকালে কামরূপ রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত ছিল। পরবর্তীতে এটি দীর্ঘ সময় রাজশাহী বিভাগের অংশ ছিল।

৮. রংপুর জেলার শিক্ষার হার কত?

সর্বশেষ তথ্যমতে, রংপুর জেলার গড় শিক্ষার হার প্রায় ৭১% (এটি প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে)।

৯. বাংলাদেশের ৮টি বিভাগের জনসংখ্যা কত?

২০২৬ সালের আনুমানিক হিসেবে মোট জনসংখ্যা প্রায় ১৭.৫ কোটি। বিভাগওয়ারী বড় থেকে ছোট ক্রম: ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, রংপুর, খুলনা, ময়মনসিংহ, সিলেট ও বরিশাল।

১০. রংপুর জেলার সংসদীয় আসন সংখ্যা কত?

রংপুর জেলার মোট সংসদীয় আসন সংখ্যা ৬টি (রংপুর-১ থেকে রংপুর-৬)।

১১. রংপুর জেলার আয়তন কত?

রংপুর জেলার মোট আয়তন প্রায় ২,৩০৮ বর্গ কিলোমিটার

শেষ কথা: নতুন সরকারের কাছে প্রত্যাশা

শেখ হাসিনা রংপুরের পুত্রবধূ হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন, আবার প্রধান উপদেষ্টাও রংপুরকে এক নম্বর জেলা করার আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু বাস্তবে রংপুরের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়নি। বর্তমান বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার যদি এই বঞ্চনার অবসান ঘটিয়ে বিশেষ বরাদ্দ নিশ্চিত করে, তবে তা সমতাভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

কৃষিভিত্তিক শিল্প, আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং শিক্ষা খাতে বিনিয়োগই পারে রংপুরের মানুষের ন্যায্য অধিকারটুকু ফিরিয়ে দিতে। নাগরিক হিসেবে আমাদের দাবি একটাই—উন্নয়নের সুষম বণ্টন। 🤝

এই প্রতিবেদনটি শেয়ার করে রংপুরের দাবি পৌঁছে দিন নীতিনির্ধারকদের কাছে। নিয়মিত খবর ও চাকরির আপডেট পেতে আমাদের ওয়েবসাইটটি বুকমার্ক করে রাখুন।

ডিসক্লেইমার: এই নিবন্ধটি প্রাপ্ত তথ্য ও জনদাবির আলোকে তৈরি। চাকরির তথ্যের জন্য দয়া করে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট যাচাই করুন।

Juger Alo Facebook Pageযুগের আলো’র সর্বশেষ খবর পেতে Facbook Page অনুসরণ করুন

Juger Alo

যুগের আলো — নতুন তথ্যের নির্ভরযোগ্য ঠিকানা। আমরা শিক্ষা, ক্যারিয়ার, সর্বশেষ প্রযুক্তি এবং সমসাময়িক খবরের সঠিক ও বস্তুনিষ্ঠ আপডেট পৌঁছে দিই সবার আগে। সঠিক তথ্যে নিজেকে আপডেট রাখতে আমাদের সাথেই থাকুন।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now