আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভেনেজুয়েলা সংকট ২০২৬- ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে স্থানীয় সময় শুক্রবার গভীর রাত থেকে মার্কিন বিমান থেকে সিরিজ বোমা হামলা চালানো হয়েছে। বিস্ফোরণের ফলে রাজধানীর প্রধান সামরিক ঘাঁটির কয়েকটি স্থাপনায় আগুন ধরে যায়। স্থানীয়দের মতে, বিস্ফোরণ ও আগুনের ধোঁয়ায় পুরো এলাকা
মার্কিন কর্মকর্তারা ভেনেজুয়েলার ওপর এই সামরিক হামলার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। শুধু তাই নয়, ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে ধরে নিয়েছে মার্কিন সেনারা।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) এক জরুরি বিবৃতিতে এই ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে জানিয়েছেন, মার্কিন সেনারা ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে বৃহৎ পরিসরের অভিযান সফলভাবে সম্পন্ন করেছে। মাদুরো এবং তার স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করে ভেনেজুয়েলার বাইরে স্থানান্তর করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এটি গত ৩৬ বছরের মধ্যে প্রথম বার কোনো দেশের ক্ষমতাসীন রাষ্ট্রপতিকে মার্কিন বিশেষ বাহিনী তাদের নিজস্ব ভূখণ্ডে গ্রেপ্তার করে এবং তৃতীয় দেশে বা যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা। এর আগে ১৯৯০ সালে পানামায় রাষ্ট্রপ্রধান ম্যানুয়েল নোরিগাকে ধরেছিল মার্কিন সেনারা।
জরুরি অবস্থা ও স্থানীয় প্রভাব
গ্রেপ্তারের আগে মাদুরো অভিযোগ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যেই এই আগ্রাসন চালাচ্ছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভেনেজুয়েলার প্রধান সামরিক ঘাঁটি ফরচুনার ভেতরে ও আশপাশের এলাকায় শুক্রবার গভীর রাত থেকে শনিবার ভোরবেলা পর্যন্ত সিরিজ বিস্ফোরণ ঘটেছে। বিস্ফোরণের পর পুরো এলাকা বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়েছে।
মার্কিন হামলার ফলে ভেনেজুয়েলায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। শহরের কিছু অংশে বিদ্যুৎ বিভ্রাট, রাস্তা বন্ধ এবং আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের মন্তব্য
ডোনাল্ড ট্রাম্প একাধিকবার ভেনেজুয়েলায় স্থল অভিযানের পরিকল্পনা বা ইচ্ছার কথা প্রকাশ করেছেন। ২৯ ডিসেম্বর তিনি বলেছিলেন, প্রেসিডেন্ট মাদুরো যেন স্বেচ্ছায় ক্ষমতা হস্তান্তর করে দেশ ছেড়ে চলে যান। এবার মার্কিন সেনারা ভেনেজুয়েলার সামরিক ঘাঁটিতে অভিযান চালিয়ে মাদুরো ও তার স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করেছে।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
মার্কিন সামরিক অভিযান ও প্রেসিডেন্ট গ্রেপ্তারের খবরে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরান। শনিবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই সামরিক হস্তক্ষেপ ভেনেজুয়েলার জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার স্পষ্ট লঙ্ঘন।
আরো পড়ুন
ইরান আরও বলেছে, এ ধরনের পদক্ষেপ জাতিসংঘ সনদ এবং আন্তর্জাতিক আইনের মৌলিক নীতির পরিপন্থী। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এটি আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করতে পারে।
স্থানীয় প্রভাব ও পরিস্থিতি
কারাকাসের সামরিক ঘাঁটিতে বিস্ফোরণ ও আগুনের কারণে সাধারণ নাগরিকরা আতঙ্কিত। বিদ্যুৎ বিভ্রাট, রাস্তা বন্ধ এবং বিস্ফোরণের ধোঁয়া শহরের অনেক অংশে ছড়িয়ে পড়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মার্কিন সামরিক অভিযান এবং প্রেসিডেন্ট গ্রেপ্তার ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করতে পারে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও সংকটের দিকে গভীর নজর রাখছে।
ভেনেজুয়েলার পরিস্থিতি এখন উচ্চ সতর্কতার। মার্কিন সামরিক অভিযান, প্রেসিডেন্ট মাদুরোর গ্রেপ্তার এবং আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া দেশ ও অঞ্চলে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক মহল গভীর উদ্বেগের সঙ্গে নজর রাখছে।
সুত্র : আরটিভি













